১ লাখ ২০ হাজার ডলারের মাইফলক অতিক্রম বিটকয়েনের

প্রথমবারের মতো ১ লাখ ২০ হাজার ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে বিটকয়েন।

প্রথমবারের মতো ১ লাখ ২০ হাজার ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে বিটকয়েন। মূলত ক্রিপ্টোবান্ধব মার্কিন নীতি বিষয়ে আশাবাদের প্রভাব পড়েছে ডিজিটাল মুদ্রাটির বাজারে। যার প্রভাব অন্যান্য ক্রিপ্টোর মূল্যেও দেখা যাচ্ছে। খবর রয়টার্স।

গতকাল এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতে বৃহত্তম এ ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ২১ হাজার ২০৭ ডলার ৫৫ সেন্টে পৌঁছায়। পরে কিছুটা পিছিয়ে এসে আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ২১ হাজার ১৫ ডলার ৪২ সেন্টে লেনদেন হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই ক্রিপ্টোবান্ধব নীতির পক্ষে সরব ছিলেন। এর পর থেকে কয়েক দফায় ডিজিটাল মুদ্রার বাজারে রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। গতকাল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ডিজিটাল সম্পদ খাতে কাঙ্ক্ষিত নিয়ন্ত্রক কাঠামো গঠনের উদ্দেশ্যে একাধিক বিল নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এ দাবিগুলোর প্রতি সমর্থন জানিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে ‘ক্রিপ্টো প্রেসিডেন্ট’ বলে অভিহিত করেছেন। শিল্পটির পক্ষে নিয়মকানুন ঢেলে সাজাতে নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

আইজি মার্কেট বিশ্লেষক টনি সাইকামোরের মতে, ক্রিপ্টো খাত বর্তমানে একাধিক ইতিবাচক প্রভাবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ ঊর্ধ্বগতির পেছনে তিনটি কারণ রয়েছে— প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে শক্তিশালী চাহিদা, ভবিষ্যতে আরো মূল্যবৃদ্ধির প্রত্যাশা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন।

তিনি আরো জানান, গত ছয়-সাত দিনে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে শক্তিশালী গতি দেখা যাচ্ছে। এ উল্লম্ফনের গতি কোথায় গিয়ে থামবে, তা বলা মুশকিল। মনে হচ্ছে খুব সহজেই ১ লাখ ২৫ হাজার ডলারে উঠে যেতে পারে বিটকয়েনের মূল্য।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত বিটকয়েনের মূল্য ২৯ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে অন্য ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্যে বড় ধরনের উত্থান দেখা যাচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্থির শুল্কনীতির মাঝে এটি চোখে পড়ার মতোই প্রবণতা।

এদিকে দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিপ্টো টোকেন ইথারের মূল্য উঠেছে ৩ হাজার ৫০ ডলার ৯০ সেন্টে, যা পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া এক্সআরপি ও সোলানার মূল্য প্রায় ৩ শতাংশ করে বেড়েছে।

কয়েনমার্কেটক্যাপের তথ্যানুসারে, ক্রিপ্টো খাতের মোট বাজারমূল্য এখন প্রায় ৩ দশমিক ৭৮ ট্রিলিয়ন বা ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

চলতি মাসের শুরুতে ১৪ জুলাইকে ‘ক্রিপ্টো সপ্তাহ’ ঘোষণা করেছিল ওয়াশিংটন। কারণ এ সপ্তাহে কংগ্রেস সদস্যরা জিনিয়াস অ্যাক্ট, ক্যারিটি অ্যাক্ট ও অ্যান্টি-সিবিডিসি সার্ভেলেন্স স্টেট অ্যাক্ট—এ তিন বিল নিয়ে ভোটাভুটিতে অংশ নেবেন। বিল তিনটির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিয়াস অ্যান্ড, যা স্থিতিশীল ডিজিটাল মুদ্রার জন্য ফেডারেল পর্যায়ের নীতিনির্ধারণ করবে।

আরও